গোপালনগরের সভা থেকে মতুয়াদের জন্য ধামাকা দিলেন মমতা - The News Lion

গোপালনগরের সভা থেকে মতুয়াদের জন্য ধামাকা দিলেন মমতা





দি নিউজ লায়ন ;  উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোপালনগরের সভা থেকে মতুয়া সম্প্রদায়ের জন্য খুশির খবর জানালেন  তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি মতুয়া বাগদি, বাউরি এবং নমশুদ্র সম্প্রদায়ের উন্নয়নের লক্ষ্যে রাজ্য সরকারের তরফে বোর্ড তৈরি করা হয়েছে বলে জানিয়ে দেন। তারপরেই বলেন, ওই বোর্ডের উন্নয়নের জন্য ১০ কোটি টাকাও দেওয়া হয়েছে। এদিন তিনি মতুয়া সম্প্রদায়ের মধুকৃষ্ণ ত্রয়োদশী তিথি উপলক্ষ্যে হরিচাদ গুরুচাদ ঠাকুরের জন্মদিনে এই বছর থেকে সরকারি ছুটি ঘোষনা করা হবে বলে জানিয়ে দেন। 


পাশাপাশি তিনি হরিচাদ গুরুচাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের রিপ্লেকা সকলের সামনে তুলে ধরে জানিয়ে দেন, হরিচাদ  গুরুচাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে। একইসঙ্গে রাজ্যের পাঠ্যপুস্তকে হরিচাদ গুরুচাদ ঠাকুরের জীবনী অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে বলেও জানান। পাশাপাশি বলেন, এই জীবনী যদি মতুয়া সম্প্রদায়ের মানুষরা  আরও বড়ো আকারে প্রকাশ করতে চান তাহলে রাজ্যের শিক্ষা দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিতে। তিনি এদিন মঞ্চে থাকা মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিদের গোসাই বলে সম্বোধন করেন।  


মমতা একইসঙ্গে তার সঙ্গে যে ঠাকুরবাড়ির বড়মা প্রয়াত বীনাপানি দেবীর সুসম্পর্ক ছিলো এবং তিনি বড়মার চিকিতসার ব্যায়ভার বহন করে গিয়েছেন সেকথাও স্মরণ করিয়ে দিতে ভোলেননি। সেইসঙ্গে বাংলাদেশ থেকে ছিন্নমূল এবং শড়নার্থীদের পাশে যে মমতা সরকার রয়েছে তা দ্বর্থহীন ভাষায় জানিয়ে দেন। বলেন, রাজ্যের ৯৪ টি উদ্বাস্তু কলোনী এবং ২৫০ টি রেল ও প্রাইভেট জায়গায় থাকা সমস্ত কলোনী গুলি রাজ্য সরকার স্বীকৃতি দিয়ে দিয়েছে। ফলে কেন্দ্রীয় সরকার যতোই নাগরিকত্ব আইন নিয়ে ফায়দা তোলার চেষ্টা করুক না কেন, তার আগেই তিনি যে ছিন্নমূল হয়ে আসা বাংলাদেশী শরণার্থীদের পাশে দাড়িয়েছেন তা জানিয়ে দেন। তিনি বলেন, উদ্বাস্তু ছিন্নমূল হয়ে ওপার বাংলা থেকে আসা মানুষরা সবাই ভারতের নাগরিক। কেন্দ্রের নাগরিকত্ব আইন স্রেফ প্রতারণা। 


মতুয়ারা সবাই এদেশের নাগরিক। আমাদের রাজ্যে কে থাকবে আর কে থাকবে না তা একমাত্র রাজ্য সরকারই ঠিক করে দেবে।  মমতা এদিন ঘোষনা দেন, রাজ্যের এসটি, ওবিসি সম্প্রদায়ের কাষ্ট সার্টিফিকেট ১০ দিনের মধ্যেই পেয়ে যাবেন।  এদিন  গোপালনগরের সভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে রীতিমতো আক্রমাণাত্মক হলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বিজেপির নাম না করে বহিরাগত তত্বকে ফের তুলে ধরলেন। বহিরাগতরাই যে বাংলার বিপদ ডেকে আনবে তা সাফ জানিয়ে দিলেন তিনি।  বহিরাগতরা যে রাজ্যে গোলমাল পাকাতে আসছে তা বুঝিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, বিজেপির কাজ হচ্ছে বাংলা থেকে বাঙ্গালীদের তাড়িয়ে রাজ্যটাকে গুজরাত বানাও।


 কিন্ত আমরা বাংলাকে গুজরাত বানাতে দেবো না।  সিপিএমের হার্মাদরা আজ বিজেপির ওস্তাদ হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা।  বলেন, বাইরে থেকে আরএসএস এবং গুন্ডা বাহিনী নিয়ে আসছে বিজেপি। আর বহিরাগতরাই যে বাংলায় অশান্তি বাধানোর পরিকল্পনা করছে তা স্পষ্টতই বুঝিয়ে দিলেন তিনি। মমতা এদিনের সভা থেকে সাফ জানিয়ে দিলেন, বহিরাগতরা পাড়ায় ঢুকলে আপনারা বাধা দিন। বহিরাগতদের এলাকায় ঢুকতে দেওয়া চলবে না। বহিরাগতরা এলাকায় ঢুকে পড়লে  দরকারে থানায় এফআইআর করুন। আর থানা এফআইআর না নিলে স্থানীয় তৃণমূলের পার্টি অফিসে জানান। 


তিনি বিজেপিকে কটাক্ষ করে বলেন, ওরা তৃণমূলকে খামচাচ্ছে, রাম চিমটি কাটছে, গোবর্ধন চিমটি কাটছে। কিন্ত তৃণমূল ভদ্র দল। তবে  তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশ্যে একতার বার্তা দিয়ে বলেন, শক্ত জায়গায় কেউ পেরেক ঠুকতে পারে না। পাথরে পেরেক ঠুকতে গেলে পেরেকটাই বেকে যাবে। তিনি এদিন বাংলার মানুষের উপর ভরসা রেখে বলেন, মানুষ আছে সঙ্গে, তাই তৃণমূল থাকবে বঙ্গে। তিনি বলেন, আমি কথা দিয়ে কথা রাখি। কথা না রাখতে পারলে আমার মৃত্যু হওয়া উচিত। এদিন তিনি কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরুদ্ধেও সরব হন। বলেন, কেন্দ্রের কৃষি আইন দেশের কৃষকদের জন্য সর্বনাশ ডেকে আনবে। 


এই আইনের ফড়েরাজ এবং পুজিপ্তিদের রমরম ঘটবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, কেন্দ্র অন্য রাজ্য থেকে চাল কেনে কিন্ত আমাদের থেকে সামান্য পরিমানে চাল কেনে। তাই আমরা রাজ্যের কৃষকদের বাচাতে রাজ্য সরকারের তরফে কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান কিনি। মমতা দাবি করেন, আগামী দিনে তৃণমূল থাকবে ওভং আমরাই আপনাদের বিনামূল্যে খাবার দেবো। কেন্দ্রের বিজেপি সরকার মিথ্যে কথা বলা সরকার বলেও অভিযোগ করেন তিনি। বলেন গত ৮ বছরে বাংলা যা করে দেখিয়েছে পৃথিবীর কোথাও তা দেখাতে পারবে না।  


এদিন ভরা সভার মধ্যে মঞ্চে বক্তব্য দিতে দিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়   কখনো মেজাজ হারালেন, আবার কখনো ক্ষমা চাইলেন। উত্তর ২৪ পরগনা জেলার গোপালনগরে মমতার সভাস্থলে কিছু মানুষ এদিন মমতার বক্তব্য শুরুর কিছু সময় পরেই  প্লেকার্ড হাতে নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর কাছে দাবি জানাতে গেলে মেজাজ হারান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রথমে প্লেকার্ড দেখেই কিস্যু হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। কিন্ত সভার মধ্যে বারবার প্লেকার্ড উঠতে থাকায় একটা সময় এসে মেজাজ হারান মুখ্যমন্ত্রী। প্রথমে প্লেকার্ড হাতের জিআরপি কর্মী বলে মনে করলেও পরে মঞ্চে থাকা আধিকারীকদের কাছে থেকে প্লেকার্ড হাতে কারা তাদের বিষয়ে জেনে নেন। 


এরপর   বক্তব্য থামিয়ে সরাসরি তাদের কাছে জানতে চান তারা কি চান? এরপর সেলফ গ্রুপের জনা কয়েক মানুষের দাবি দাওয়া সম্বলিত প্লেকার্ড দেখে মেজাজ হারিয়ে বলে ওঠেন, আমি আর কতো দেবো আপনাদের। কাঁধে ঋণ নিয়েও আপনাদের জন্য করে দিচ্ছি। যতোদুর দেওয়ার সবই করে দিচ্ছি। না চাইতেই অনেক কিছু পাচ্ছেন আপনারা। আমার যেটা করার আমি নিশ্চয়ই করে দেবো।  তিনি সাফ জানিয়ে দেন, আগামী দিনে যেন কখনই তাঁর সভাস্থলে এই ধরনের প্লেকার্ড হাতে নিয়ে দাবি জানানোর চেষ্টা না হয়। 


তিনি বলেন, যা দাবি দাওয়া তা আমাকে প্রয়োজনে চিঠি দিয়ে জানাতে পারেন।বাকুড়ার সভা শেষে তিনি এক বস্তা চিঠি পেয়েছিলে বলেও জানান। তিবে তার কাছে চিঠি দেওয়ার পাশাপাশি  দুয়ারে সরকারে তারা তাদের যাবতীয় সমস্যার কথা জানাতে পারেন বলেও জানিয়ে দেন মমতা। 


 বক্তব্যের মাঝে প্লেকার্ড কান্ডে মেজাজ হারালেও কিছু সময়ের মধ্যে নিজেকে কন্ট্রোল করে নেন মমতা। বলেন, এই ধরনের কাজ করবেন না। মিটিং এ দাঁড়িয়ে কেউ যেন ২-৪ জনের স্বার্থ না দেখেন।  আপনাদের কারনেই আমার সভাটা নষ্ট হলো বলেও মেজাজ হারিয়ে মন্তব্য করেন তিনি।  তবে এই বকা দেওয়ার পরেই তিনি ক্ষমাও চেয়ে নেন।   

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.